ব্রেকিং নিউজ

ইসলাম পুরুষদেরকে কয়টি বিয়ে করার অনুমতি দেয়?

ইসলাম পুরুষদেরকে চারটি পর্যন্ত বিয়ে করার অনুমতি দেয়। পবিত্র কুরআনে সূরা নিসায় এই চারটি পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি আল্লাহ পুরুষদের দিয়েছেন। সূরা নিসার তিন নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন,”নারীদের মধ্য হতে তোমাদের পছন্দ মত দুটি,তিনটি কিংবা চারটি পর্যন্ত বিয়ে করে নাও”। তবে ইসলামে একইসাথে চারজনের বেশি স্ত্রী রাখার অনুমতি নেই।


উপরোক্ত আয়াতটি আমরা সবাই জানি। বিশেষ করে প্রতিটি পুরুষের এই আয়াতটি একদম মুখস্ত। কুরআনের আর কিছু জানুক আর না জানুক এই আয়াতটি আমার প্রিয় ভাইয়েরা জানেন। তবে মজার ব্যাপার হলো এই আয়াতের পরের অংশটুকু খুব কম ভাইয়েরাই জানেন,আর জানলেও মানেন না অথবা মানলেও হয়তো এক হাজার জনে একজন। যাই হোক, এই আয়াতের পরের অংশটুকু বলি…
আল্লাহ বলেন,”কিন্তু যদি তোমরা আশংকা করো যে,তাদের সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে পারবেনা তাহলে মাত্র একটি” আল্লাহ চারটি পর্যন্ত বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন ঠিকই তবে সাথে সাবধানও করে দিয়েছেন যে,যদি তোমরা তাদের সবার সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে না পারো তবে তোমার জন্য মাত্র একটিই যথেষ্ট।


সূরা নিসার ১২৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালা আরো বলেছেন,”তোমরা কখনও স্ত্রীদের মধ্যে সুবিচার করতে পারবেনা যদিও তোমরা তা কামনা করো,সুতরাং তোমরা কোন একজনের প্রতি সম্পূর্ণ রূপে ঝুকে পড়োনা ও অপরজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখো না এবং যদি তোমরা পরস্পর সমঝতায় আসো ও সংযমী হও তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়”।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“যার দুই স্ত্রী রয়েছে কিন্তু একজনের দিকেই সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়েছে,সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠবে যে,তার শরীরের অর্ধেক অংশের গোশত খসে পড়বে।”
(আবু দাঊদ ৩২২)


চার বিয়ে বিষয়ক আয়াতটির প্রথম অংশ যেভাবে বয়ান হয়,পরের অংশটি মোটেও সেভাবে বয়ান হয়না। আল্লাহ এই প্রসঙ্গে আরো কি কি বলেছেন আমার ভাইয়েরা তা জানেন না,শুধু ভাইয়েরা কেন বোনরাও জানেন না। অথচ এই আয়াতটিতে একটি মেয়েকে কত বড় সম্মান দেয়া হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পুরুষগণ মনে করেন যে তারা ইচ্ছা করলেই একের অধিক বিয়ে করতে পারবেন,নাহ ইচ্ছে করলেই পারবেন না,তাকে এখানে অবশ্যই ইনসাফের (সুবিচার) বিষয়টি চিন্তা করতে হবে। আর যদি কেউ কোন রকম সন্দেহ পোষণ করেন যে তিনি একের অধিক স্ত্রীর প্রতি ইনসাফ করতে পারবেন না তবে তার জন্য একের অধিক স্ত্রীও যায়েজ নেই।


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বিতীয় বিয়ে করেননি যতদিন হযরত খাদিজা (রাঃ) বেঁচে ছিলেন। হযরত খাদিজা (রাঃ) এর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন। এবং প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পরও স্ত্রীর প্রতি তাঁর যে ভালবাসা ছিলো সেই ভালবাসার কাছে আজকের যুগের ছেলেরা যেতে পারবে কিনা সন্দেহ।
এখন ভেবে দেখুন,যাদের একের অধিক বিয়ে করার ইচ্ছে আছে তারা কি করবেন। পারবেন সবার প্রতি সমান আচরণ করতে? দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তো প্রথম স্ত্রীর আর কোন খোঁজ খবরই থাকে না। তার কোন হকই আপনি আদায় করেন না। তাহলে? আমাদের দেশের বেশির ভাগ বিয়েই হয় দেনমহর ছাড়া,কাবিনে উল্লেখ থাকে ঠিকই কিন্তু সেটা আর আদায় করা হয়না। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতারও অভাব নেই। যদিও ইসলাম কন্যাসন্তানকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করে কিন্তু আমরা করি না,আর তাই কন্যার পিতাগণ কন্যাদায়গ্রস্ত হয়ে পড়েন।


আপনাকে একের অধিক বিয়ে করার ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি যথেষ্ট অনুগত থাকতে হবে। ঠিক যেভাবে আল্লাহ আপনাকে প্রত্যেক স্ত্রীর প্রতি আচরণ করতে বলেছেন ঠিক সেভাবেই করতে হবে। এতটুকুও এদিক ওদিক করা যাবে না। দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিয়ে আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’য়ালা মেয়েদের সম্মান কমাননি,বরং বাড়িয়েছেন। আপনি যদি দ্বীনদার স্ত্রী হন তবে এটা অবশ্যই অনুধাবন করতে পারবেন। আর একজন দ্বীনদার স্বামী কখনই একের অধিক স্ত্রীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করবেন না।


আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’য়ালা পুরুষদেরকে একের অধিক বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন আর সাবধানও করে দিয়েছেন যাতে আপনি তাদের মধ্যে কারো হক নষ্ট না করেন। যদি করেন তাহলে এই হক নষ্ট করার জন্য আপনাকে পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

—-সংগৃহীত

Leave a Reply

Recent Posts

ক্যালেন্ডার

June 2019
S S M T W T F
« May    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

   সাম্প্রতিক খবর



»