ব্রেকিং নিউজ

নায়িকারা আর ভিজবেন না!

নায়িকারা আর ভিজবেন না!

যে ছবিতে শ্রদ্ধা কাপুর ভিজবেন, সেই ছবিই ‘হিট’ করবে। অমিতাভ বচ্চনের নায়িকা স্মিতা পাতিল থেকে শুরু করে, কাজল, রানী মুখার্জি, কারিনা কাপুর, সোনম কাপুর, ক্যাটরিনা কাইফ, কৃতি স্যানন থেকে শ্রদ্ধা কাপুর সবার ক্ষেত্রে এই সত্য প্রযোজ্য। মনে করা হয়, বৃষ্টির সঙ্গে ভারতীয় ছবির সাফল্যের যোগ আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক পানির সংকটের কারণে ভারতীয় নায়িকারা হয়তো আর বৃষ্টিতে ভিজবেন না।

কুছকুছ হোতা হ্যায় ছবিতে শাহরুখ ও কাজলতামিল ছবির কথাই ধরা যাক। বৃষ্টি সেখানকার ছবির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু তীব্র পানির সংকটের কারণে এখন থেকে তামিল ছবিতে পানির ব্যবহার কমে যাবে। যেটুকু থাকবে, সেটুকুও কম্পিউটারে তৈরি পানি বা বৃষ্টি। সংকটে পড়ে সিনেমায় বন্যা বা সুনামির দৃশ্য দেখাতে ৫০-১০০ ট্যাংক পানি চাইতে পারছেন না ছোট-বড় কোনো পরিচালকই। শিগগিরই শুটিং শুরু হবে বা চলছে, এ রকম ছবিগুলোতেও বৃষ্টির দৃশ্য রাখছেন না কেউই।

হাম তুম ছবিতে রানী মুখার্জি ও সাইফ আলী খানএক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সামনের দেড় বছরের মধ্যে চেন্নাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদসহ ২১টি শহরে পানির তীব্র সংকট তৈরি হবে। ১০ বছরের মধ্যে ভারতের ৪০ শতাংশ মানুষ পান করার মতো পানি পাবে না। ইতিমধ্যে তামিলনাড়ুতে পানির জন্য শুরু হয়ে গেছে হাহাকার। এসব কারণেই সিনেমায় বৃষ্টির দৃশ্য একেবারেই রাখতে চাইছেন না পরিচালকেরা। তামিল পরিচালক জি ধনঞ্জয় জানান, বৃষ্টির দৃশ্য আপাতত বাদ দেওয়া হচ্ছে। পানির অপচয় রোধে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সওয়ারি ছবিতে সোনম কাপুর ও রণবীর কাপুরএই সংকটের কথা মাথায় রেখে কাজ করা হচ্ছে ভারতীয় টেলিভিশনেও। ‘বিগ বস থ্রি’-এর সেটের সুইমিংপুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনে পানি ব্যবহার সেখানে করা বা দেখানো হচ্ছে না। ব্লু ওশান ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন একাডেমির পরিচালকেরা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তাঁরা বলেন, খুব বেশি দরকার হলে বড়জোর একটা জানালার সামনে বৃষ্টির দৃশ্য তৈরি করা হবে। এ জন্য দুই বালতি পানিই যথেষ্ট। পুরো একটা মাঠ বা বাড়িকে বৃষ্টিতে ভেজানো পানির অপচয় হবে। ভারতীয় এক টেলিভিশন প্রযোজক জানান, এখনকার এ সংকট যতটা ভয়াবহ, ৮০ ও ৯০-এর দশকে এত খারাপ অবস্থা হয়নি। এখন সব ইন্ডাস্ট্রিতে এই সংকটের রেশ দেখা যাবে। আইটি, হোটেল, সিনেমা সব শিল্পে এই পানির সংকটের প্রভাব পড়বে।

চামেলি ছবিতে কারিনা কাপুরঅভিনেতা অজিতের ‘বিশ্বসম’ এবং রজনীকান্তের ‘কালা’ ছবির বৃষ্টির দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল হায়দরাবাদ ও মুম্বাইতে। ২০১০ সালে করণ জোহর পরিচালিত শাহরুখ খানের ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবিতে নিউইয়র্কে বন্যার দৃশ্য তৈরি করতে ২০০ ট্যাংক পানি ব্যবহার করা হয়। মুখেশ ভাটের ‘তুম মিলে’ ছবিতেও এই পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয় মুম্বাইয়ের প্লাবনের দৃশ্য দেখাতে।

দে দানা দান ছবিতে অক্ষয় কুমার ও ক্যাটরিনা কাইফনা দেখিয়ে কী বা করার থাকে? ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘এবিসিডি টু’ ছবিতে ‘বেজুবান ফির সে’ গানে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে নেচেছেন শ্রদ্ধা কাপুর। বৃষ্টির মতো পয়সা এসে পড়েছে প্রযোজকের পকেটে। ২০১৩ সালে ‘আশিকি টু’ ছবিতেও তাই। শাড়ি পরে বৃষ্টিতে ভেজা শ্রদ্ধা কাপুরের মাথার ওপর জ্যাকেট মেলে ধরেছিলেন নায়ক আদিত্য রায় কাপুর। ব্যস, ছবি হিট। অনেকেই মনে করেন, নায়িকাদের ভেজালেই লোকে ছবি দেখতে যাবে। তবে পানির সংকটের কারণে বৃষ্টিতে ভেজা নায়িকার রোমান্টিক নাচ তামিল ছবিতে আপাতত বন্ধ। পানির সংকটের এলাকাগুলোর সঙ্গে একাত্মতা জানাতে শিগগিরই অন্য অঞ্চলগুলোতেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক প্রকাশনা সমূহ

   সাম্প্রতিক খবর



»