ব্রেকিং নিউজ

পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের আভ্যন্তরীন বিষয় এবং বহিঃ উপাদান গুলো আলোচনা করুণ ?

পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে ।

পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণকারী: পররাষ্ট্র নীতি দুইটি জিনিসের উপর নির্ভরশীল।তা হল আভ্যন্তরীন বিষয় আর বৈদেশিক বিষয়। এই নির্ধারণকারী প্রতিটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হল:

আভ্যন্তরীন বিষয়


১. ভৌগোলিক পরিস্থিতি: ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান সর্বদা দেশের বৈদেশিক নীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা. আন্তর্জাতিক রণক্ষেত্র একটি দেশের কৌশলের একটি রাজ্য ভূগোল দ্বারা এ সংজ্ঞায়িত. এটা কেন একবার নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেন যে, “একটি দেশের বৈদেশিক নীতি তার ভূগোল দ্বারা. নির্ধারিত হয়” বাংলাদেশ এই একটি ব্যতিক্রম হল না.ভূগোল ভারত এবং মায়ানমার এর একটি প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ করা তিন পক্ষের মধ্যে বঙ্গোপসাগর সঙ্গে দক্ষিণ ব্যতীত. ভারত তিন দিক থেকে বাংলাদেশ বেষ্টিত এবং বাংলাদেশের অবস্থান বঙ্গোপসাগর থেকে একটি পশমী কাপড় মত হয়. এই অবস্থান বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকারক এবং এটা বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি প্রভাবিত.ভৌগলিক অবস্থানের জন্য পাকিস্তান এবং চীনের সাথে বাংলাদেশকে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হয়।


২. ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি: যেহেতু বাংলাদেশের চতুর্দিক থেকে ভারত বেষ্টিত তাই ভারত ঘেঁষা এবং ভারতবিরোধী দুই ধরনের পারস্পরিক বিপরীত নীতির জন্য বাংলাদেশের এক সংকটপূর্ণ অবস্থায় পররাষ্ট্র নীতির নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।

৩. ভূ-অর্থনীতি পরিস্থিতি: যেহেতু বিশাল ভারত আমাদের চারদিকে ঘিরে রেখেছে।এই ভারত আমাদের অর্থনীতিকে কব্জা করে রেখেছে।আবার আমাদের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত যা আমাদের বাণিজ্যের দুয়ারকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে।এই জিনিসগুলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।


৪. জনসংখ্যা: জনসংখ্যার অন্য বাংলাদেশ বৈদেশিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক.বাংলাদেশ কাছের ১৫ কোটি জনসংখ্যার বিশাল জনসংখ্যা আছে, ১৪৭,০০০ কিলোমিটার যা কিমি প্রতি ১০২০ ব্যক্তির জনসংখ্যার ঘনত্ব দেয় একটি এলাকায় চিপা হয়. এই বিশাল জনসংখ্যার অধিকাংশই অশিক্ষিত এবং অদক্ষ. তাই বাংলাদেশ বিদেশী নীতি মূলত এই বিশাল জনসংখ্যা দ্বারা প্রভাবিত নেতিবাচকভাবে কারণ সরকার একটি অত্যন্ত প্রগতিশীল কারণ জনসংখ্যার বিদেশী নীতি তৈরি করতে পারবেন.


৫. অর্থনৈতিক অবস্থা: একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অতি একটি দেশের বৈদেশিক নীতি প্রভাবিত. যদি একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সুস্থিতই চেয়ে একটি দেশের বৈদেশিক নীতি হয়ে শক্তিশালি কারণ নীতি বাস্তবায়নের একটি বড় পরিমাণ আর্থিক পৃষ্ঠপোষক উপর নির্ভরশীল. বাংলাদেশ অর্থনৈতিক খুব খারাপ অবস্থায়-প্রতি বাংলাদেশের পিছু আয় হল $ ১৪৬৬ . সুতরাং সাহায্য LDC অবস্থা পেয়েছিলাম এবং আক্রমনাত্মক বিদেশী নীতি না প্রণয়ন করতে পারেন।


৬. জনমত: বাংলাদেশে জনমত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যেমন শেখ মুজিবুর রহমান ভারত এবং সোভিয়েতের সাথে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চেলেও তাতে জনগণের সমর্থন ছিল না।তাই পরবর্তীতে বাংলাদেশ মুসলিম বিশ্বের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।


৭. চাপসৃষ্টিকারী দল: বাংলাদেশে বিভিন্ন চাপসৃষ্টিকারী দল আছে যেসকল দলসমূহ চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে নিয়ন্ত্রন করতে এক সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যেমন নাইকো সহ বিভিন্ন সরকার যখন কোন বিদেশী কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ব হয় তখন ঐ সকল দল সমূহ সরকারের বিরুদ্বে চাপ সৃষ্টি করে তা বাতিল করার জন্য দাবী জানায়।এভাবে করে পররাষ্ট্রনীতির নিয়মক হিসেবে কাজ করে।


৮. ধর্ম: ধর্ম হল অন্য নির্ধারক যা বাংলাদেশ ফরেন পলিসি উপর এর প্রভাব স্থাপিত খুব কার্যকরীভাবে.কারণ এই দেশের প্রায় ৯০ ভাগ লোক মুসলিম। তাই ধর্মীয় পরিচয় বাংলাদেশ বিদেশী নীতির তৈয়ার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকরে।

আন্তর্জাতিক বিষয়ঃ

১. ভাবগত পরিবেশ এবং বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ভাবগত পরিবেশের অন্য বিদেশী নীতির তৈয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক. যদি কোন রাষ্ট্র কোন ভাবগত পরিবেশ একটি তারপর যে দেশের বৈদেশিক নীতির দ্বারা এই হিসাবে এটা সমাজতন্ত্র ঠান্ডা যুদ্ধের সময় বৃদ্ধি পূর্ব ইউরোপের মধ্যে হয়েছে দেখা প্রভাবিত যাবে নির্মিত উপস্থিত থাকে. বাংলাদেশ হচ্ছে ভারত সোভিয়েতের এক জোটসঙ্গী ঠান্ডা যুদ্ধের সময়কালে সাহায্য সঙ্গে স্বাধীন বৈদেশিক নীতি মানদণ্ড এক সমাজতন্ত্র অনুসরণ করে যদিও পরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে দিকে ঝুকে পড়ে।


২. সরকার, নেতৃত্ব এবং কূটনীতি যোগ্যতা: চলমান নেতৃত্ব যদি শক্তিশালী হয় এবং রাজনীতির সঙ্গে কুটনীতি যুক্ত হয়ে অত্যন্ত যোগ্যতাসম্পন্ন সরকার সহজেই একটা শক্তিশালী করার যন্ত্র বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন করতে পারেন। পাকিস্তানের বিরুদ্বে যুদ্বে অংশগ্রহণ করার জন্য বংগবন্ধুর ভিতর ভারতীয় প্রভাব বিরাজমান ছিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের একটি অংশ সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী।তাই বংগবন্ধু সোভিয়েত ব্লকের দিকে বেশি ঝুকে পড়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জিয়ায়ুর রহমান এবং এরশাদ পরবর্তীতে মুসলিম বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুকে পড়েছিল।যদিও তারা ভারতের সাথে সম্পর্ক কখনও খারাপ করে নাই।


৩. আঞ্চলিক পরিবেশ: বাংলাদেশের মত সল্পোন্নত দেশসমূহ আন্তর্জাতিক বিশ্বে কোন ধরনের প্রভাব রাখতে পারে না।কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মাঝে একটি সমধুর সম্পর্ক যেন গড়ে তোলা যায় এই লক্ষ্যে জিয়ায়ুর রহমান সার্ক গঠনে সফলতা অর্জন করেছিলেন।তাই আঞ্চলিক পরিবেশ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। এ ছারাও শক্তি কাঠামো, অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া, বিভিন্ন জোটসমূহ এবং বিশ্ব জনমত পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের বহিঃ উপাদান হিসেবে কাজ করে থাকে ।

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক প্রকাশনা সমূহ

   সাম্প্রতিক খবর



»