ব্রেকিং নিউজ

বৃষ্টি থামাতে পারল না এফডিসি নির্বাচন

এফডিসি নির্বাচন

দিনভর ছিল বৃষ্টি। সারা শহরের রাস্তাঘাটে জলজট। তীব্র যানজট গলি থেকে রাজপথে। এসব উপেক্ষা করে রীতিমতো উৎসবমুখর তেজগাঁও এলাকার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন তথা এফডিসি প্রাঙ্গণ।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে এফডিসি মুখর ছিল নবীন–প্রবীণ তারকাদের পদচারণে। আর এ সবকিছুর একটাই উপলক্ষ—বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন।

মঙ্গলবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণের মাধ্যমে শুরু হয়েছে চলচ্চিত্রশিল্পীদের সবচেয়ে বড় সংগঠনটির নির্বাচন। এদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন দুটি প্যানেলের সদস্যরা। ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেন প্রার্থীরা। দুই প্যানেলের পক্ষ থেকে ২১ জন করে প্রার্থীর জন্য মোট ৬০টি মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করা হয়।

এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেলে ভাগ হয়ে শিল্পীরা নির্বাচন করছেন। একটি মৌসুমী-ডি এ তায়েব, অপরটি মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান প্যানেল। স্বতন্ত্রভাবে কেউ মনোনয়নপত্র ক্রয় করেননি আজ।

মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে মিশা-জায়েদ খান প্যানেলের পক্ষ থেকে জায়েদ খান, ইমন, সুব্রত, অভিনেত্রী জেসমিনসহ অনেকেই এফডিসিতে শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হাত থেকে মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেন। বেলা তিনটার দিকে মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করতে সমিতির কার্যালয়ে আসেন মৌসুমী ও ডি এ তায়েব।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করছেন মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান প্যানেলের সদস্যরা। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করছেন মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান প্যানেলের সদস্যরা। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়াএবারের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চমক চিত্রনায়িকা মৌসুমি। ইতিমধ্যে সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শিল্পী সমিতির ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী, যিনি সভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন।

মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করার পর সংবাদমাধ্যমগুলোকে মৌসুমী জানান, ২১ জন প্রার্থীর জন্য মোট ৩০টি মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেছেন তাঁরা। কিছু ফরম ভুলবশত বাদ যেতে পারে বলেই বাড়তি ৯টি মনোনয়ন ফরম নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগামী দুই দিন আমরা নিজেদের প্যানেল গোছাব। এরপরই জানানো হবে আমাদের প্যানেলে অন্য প্রার্থী কারা থাকছেন। কারণ, অনেকেই আশ্বাস দিয়েছিলেন আমাদের সঙ্গে নির্বাচন করার। তাঁরা সরে দাঁড়িয়েছেন। তাই আপাতত কারা থাকছেন, সেটা এখনই বলছি না। জমা দেওয়ার পরই জানতে পারবেন সবাই।’

শিল্পী সমিতির ইতিহাসে মৌসুমী প্রথম নারী, যিনি সভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া।এ সময় মৌসুমী নির্বাচনে জয়ী হলে কী করবেন, সে প্রতিশ্রুতির কথাও জানান। আরও জানান, সমিতির যে সদস্যদের বাদ দেওয়া হয়েছে, জয়ী হলে তাঁদের নিয়ে পুনরায় ভাববেন তিনি। সঙ্গে যে–ই জয়ী হোক, শিল্পীদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানান ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় এ নায়িকা। মৌসুমীর মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করার সময় সঙ্গে ওমর সানীও ছিলেন।

মৌসুমীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ডি এ তায়েব। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় শিল্পীদের পাশে থেকেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শিল্পীদের সহায়তা আনার ব্যাপারে সব সময় কাজ করছি। আমাদের প্যানেল বিজয়ী হলে এ কাজটি আরও গতি পাবে। মৌসুমী আপাকে সঙ্গে নিয়ে শিল্পীদের উন্নয়নে আরও কাজ করব।’

শিল্পী সমিতির বর্তমান মেয়াদের সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন জায়েদ খান। দ্বিতীয় মেয়াদে এবারের নির্বাচনের মনোনয়ন গ্রহণ করার পর জায়েদ খান বলেন, ‘আমাদের বর্তমান কমিটি জয়ী হওয়ার পর কী করেছে, সেটা সব শিল্পীই জানেন। তাঁদের সমর্থন নিয়ে তাই আবারও আমাদের প্যানেল নির্বাচন করছে। এবার জয়ী হলে কাজের গতি আরও বাড়বে। শিল্পীদের পাশে আগেও ছিলাম, এবার থাকতে চাই।’

২৬ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা দিয়ে শুরু হয়ে এবারের ২০১৯-২১ এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। সেদিন খসড়া ভোটার তালিকায় মোট ৪৪০ সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়। এর বাইরে যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁরা তালিকায় নাম ওঠানোর জন্য গত রোববার আবেদন করেছেন। ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে, এবার নির্বাচনে মোট ৪৪৯ জন ভোট দিতে পারবেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করছেন মৌসুমী ও ডি এ তায়েব প্যানেলের সদস্যরা। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করছেন মৌসুমী ও ডি এ তায়েব প্যানেলের সদস্যরা। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া।৩ অক্টোবর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেবে। ৪ অক্টোবর বিকেল ৫টায় প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর। ওই দিন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

গত ২৪ মে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দুই বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। সে হিসাবে ২৪ আগস্টের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে প্রায় দুই মাস পর এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক প্রকাশনা সমূহ

   সাম্প্রতিক খবর



»