ব্রেকিং নিউজ

মাহমুদউল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব

মাহমুদউল্লাহ

ওদের হাতে বিশ্বকাপ মশাল। ওদের কাছে ১৬ কোটির প্রত্যাশা। ওরাই স্বপ্নের ধারক। ওরা বাংলার টাইগার। ওরা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নসারথি। ওদেরই একজন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ খেলোয়াড়কে নিয়ে প্রতিদিন লেখা প্রকাশ করছে রাইজিংবিডি’র ক্রীড়া বিভাগ। আজ পড়ুন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের গল্প, লিখেছেন আমিনুল ইসলাম।

সনাথ জয়সুরিয়া, কেভিন পিটারসেন, শোয়েব মালিক, স্টিভ স্মিথ ও অন্যান্যদের মতো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল একজন বোলার হিসেবে। তারপর তিনি নিজেকে ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে বল হাতেও কার্যকরী অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারেন।

সেঞ্চুরিয়নে তার করা ১০৩ রানের অনবদ্য ইনিংসে ভর করে ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচ ছাড়া যেসব ম্যাচে তিনি ব্যাট হাতে ভালো করেছিলেন সেখানে অন্য কেউ নায়ক বনে গেছে। তাকে হতে হয়েছে সাইড নায়ক। এবার বিশ্বকাপে তিনি পারবেন কী বাংলাদেশের নায়ক হতে? বড় ম্যাচের তারকা খ্যাত সাইলেন্ট কিলার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ঘিরে ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশাও কম নয়।
 


মাহমুদউল্লাহর জন্ম ময়মনসিংহে। সেখানেই তার ক্রিকেটের হাতেখড়ি হয়। ২০০০ সালে তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টে সুযোগ পান। এরপর ২০০৪ সালে তিনি ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও খেলেন। একই বছর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অভিষেক হয় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে। ২০০৫-০৬ মৌসুম থেকে নিয়মিত ক্লাব ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন।

১৯ বছর বয়সে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে তার অভিষেক হয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে তার অভিষেক ম্যাচে ৫৫ ও ৪২ রান করেন। ২০০৭ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার ওয়ানডে অভিষেক হয়। অভিষেক ম্যাচে বল হাতে তিনি ২ উইকেট নেন। আর ব্যাট হাতে করেন ৩৬ রান। অভিষেক ম্যাচে তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়ে বাংলাদেশের কেনিয়া সফরেও তাকে রাখা হয় এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলেও সুযোগ দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে তিনি দল থেকে বাদ পড়লেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করে আবার জাতীয় দলে ডাক পান।

২০০৯ সালের জুলাইতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের টেস্ট অভিষেক হয়। সাদা পোশাকে অবশ্য দারুণ সূচনা করেন তিনি। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও বল হাতে দুই ইনিংসে নেন ৮ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়ে অবদান রাখেন। ৮ উইকেট শিকার এখনো তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার।
 


ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর লংগার ভার্সনে ব্যাট হাতে ছন্দ খুঁজে পান তিনি। টানা পাঁচ ম্যাচে পঞ্চাশের অধিক রান করেন। সেবার তিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান।

ওয়ানডেতে ৭ নম্বরে ব্যাটিং করে তিনি অনেক রান করেছেন। ২০১১ বিশ্বকাপে শফিউল ইসলামকে নিয়ে দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। বিশ্বকাপের পর তাকে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল।

এরপর ২০১৪ সালটি তার ভালো যায়নি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও হাসেনি তার ব্যাট। তবে ২০১৫ সালে তিনি নিজেকে ফিরে পান। সে কারণে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পান। ২০১৫ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি (১০৩) হাঁকিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন বাংলাদেশকে। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ১২৮ রান। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করেন তিনি। বিশ্বকাপের সাত ইনিংসে ৩৬৫ রান করেছিলেন তিনি।

এবার বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ আরো অভিজ্ঞ। আরো পরিণত। বড় মঞ্চের তারকা এবার বিশ্বকাপ কিভাবে রাঙান দেখার বিষয়। তবে তার নায়ক হওয়ার সুযোগ রয়েছে এই বিশ্বকাপে।

Leave a Reply

Recent Posts

ক্যালেন্ডার

June 2019
S S M T W T F
« May    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

   সাম্প্রতিক খবর



»