ব্রেকিং নিউজ

শবে মেরাজ উৎযাপন করা বিদ’আত

মেরাজ, এক অলৌকিক ঘটনা, যা ঘটেছিল তা সত্য এবং তা আমরা কুরআন ও হাদীস হতে জানতে পারি। শরিয়তে এই দিন উপলক্ষে বিশেষ কোন আমল করার দলিল নেই। আমাদের সমাজে শবে মেরাজ উপলক্ষে যে আমল গুলো দেখা যায় তা হলো-
◉ ১২ রাক’আত সালাত আদায় করা।
◉ রোজা রাখা।
◉ উমরার নিয়্যাত করা ও আদায় করা।
◉ কবর জিয়ারত করা।
ঐ দিন এই সকল ইবাদত সমূহ পালন করা বিদ’আত। জ্ঞানহীন ও দ্বীন এর ব্যপারে গাফেল কিছু মাওলানাদের ফতোয়ার ভিত্তিতে আমাদের সমাজের মুসলীমদের মেরাজ উপলক্ষে সারা রাত নফল নামাজ এবং দিনে রোজা রাখতে দেখা যায়। অথচ তাঁদের কাছে এর প্রমানে কোন দলিল নেই। তাঁদের দলিল হলো বিদ’আতি বই-পুস্তক!
.
অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন যে-
– নফল সালাত পড়া, নফল রোজা রাখা এগুলো কি বিদ’আত?
– নফল ইবাদতের আবার দলিল লাগবে কেন?
– ঐ দিন এই সকল নফল ইবাদত করা যাবে না তার দলিল কোথায়?
.
❏ জবাবঃ
আপনার কথা সত্য, কিন্তু উদ্দেশ্য খারাপ। এগুলো সব শয়তানের শয়তানী যুক্তি! সমাজে বিদ’আত এই ভাবেই প্রতিষ্ঠা পায়। কোন ইবাদতকে যখন কোন দিবসের সাথে সম্পৃক্ত করবেন তখন তার দলিল লাগবে। দলিলবিহীন আমল করলে তা কখনও আল্লাহ গ্রহন করবেন না; বরং বিদ’আত করার কারণে আপনি কঠিন গুনাহগার হবেন। আর দলিল হলো কোরআন, হাদীস অথবা সাহাবাদের আমল। 
.
লক্ষ্য করুন, রাসুল ﷺ কিন্তু মেরাজের পরের দিন-ই ইন্তিকাল করেন নাই; পরের বছরও ইন্তিকাল করেন নাই, তিনি বেঁচে ছিলেন আরও প্রায় ১০/১১ বছর! এই বছরগুলোতে তিনি কোনদিন মেরাজের রাত উপলক্ষে ১২ রাক’আত সালাত আদায় করেছেন অথবা নফল রোজা রেখেছেন এর প্রমানে ১টি সহীহ হাদীসও পৃথিবীতে নেই। রাসুল ﷺ যেই দিনকে কোন ইবাদতের উপলক্ষ বানালেন না, সেই দিবসকে আপনি ইবাদতের উপলক্ষ বানাবেন কি করে? আপনি কি রাসুল ﷺ থেকে শরীয়ত বেশী বুঝে গেছেন? অথবা আপনি মনে করেন যে, রাসুল ﷺ এই ইবাদত করার কথা তাঁর উম্মতদের বলতে ভুলে গেছেন? [নাউযুবিল্লাহ…]
.
এমনকি তার কোন সাহাবী, তাবেঈ, তাবে-তাবেঈণগ এমন কোন আমল করেছেন তার প্রমান নেই। তারা যা করেন নি, তা আমরা করছি কি কারনে? মায়ের চাইতে মাসির দরদ বেশী-র মতো হয়ে গেলো না ব্যাপারটি?
.
সালফে সালেহীনগণ এ মর্মে একমত যে, ইসলামী শরীয়তে অনুমোদিত দিন ছাড়া অন্য কোন দিবস উৎযাপন করা বা আনন্দ-উৎসব পালন করা বিদ’আত। কারণ-
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدّ
-যদি কেউ আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে যা তাতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।
[বোখারী হা/২৬৯৭; মুসলিম হা/৪৩৮৪,৪৩৮৫; আবূ দাঊদ ৪৬০৬; আহমাদ হা/২৬০৯২]
.
সুতরাং মিরাজ দিবস অথবা শবে মেরাজ পালন করা দ্বীনের মধ্যে সৃষ্ট বিদ’আতের অর্ন্তভূক্ত। রাসুল ﷺ এর মৃত্যূর পর তার সাহাবী, তাবেঈ, তাবে-তাবেঈন থেকেও এদিনকে উপলক্ষ করে কোন ইবাদত করার প্রমান পাওয়া যায় না; অথচ সকল ভাল কাজে তারা ছিলেন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি অগ্রগামী। সুতরাং এ দিবসকে কেন্দ্র করে যে কোন ইবাদত করা হউক না কেন, তা বিদ’আত হিসাবেই পরিগণিত হবে।
.
আসুন এই বিদ’আত থেকে নিজে বাঁচি ও পরিবার পরিজনকে বাঁচাই।
.
আল্লাহ আমাদের বিদ’আত ছেড়ে সারা জীবন সহিশুদ্ধ আমল করার তৌফিক দিন।

সংগৃহিত

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক প্রকাশনা সমূহ

   সাম্প্রতিক খবর



»