ব্রেকিং নিউজ

সাকিবের শাস্তি কমার সম্ভাবনা কতটুকু?

সাকিব

বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘তার পরও আমরা অবশ্যই দেখব যে আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে কতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে। আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে এটি নিয়ে কথা বলেছি।’

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তা, প্রত্যেকের মুখেই শোনা গেছে যে সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে করণীয় আছে সামান্যই। তবু কোনোভাবে কিছু করার আছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখছে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসন। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী কাল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তেমনটাই।

যদিও সবার আগে নিজেদের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও আরেকবার জানিয়ে রেখেছেন তিনি, ‘দেখুন, আপনারা জানেন এই বিষয়টিতে বিসিবির করণীয় খুবই সীমিত। যেহেতু সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার স্বীকার করে একটি সমঝোতার মধ্যে চলে গেছেন।’ অভিযোগ স্বীকার করার পাশাপাশি সাকিব শাস্তিও মাথা পেতে নেওয়ায় এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ দুই বছর নিষিদ্ধ হওয়া এই অলরাউন্ডারের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করারও সুযোগ নেই কোনো।

এই দুঃসময়ে সাকিবের পাশেই থাকা বিসিবি তবু কোনো একটি পথ খোলার চেষ্টা করে দেখতে চায়। কিভাবে? সংস্থার প্রধান নির্বাহী বলেছেন সেটিই, ‘তার পরও আমরা অবশ্যই দেখব যে আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে কতটুকু কাজ করার সুযোগ আছে। আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে এটি নিয়ে কথা বলেছি। এই বিষয়টি নিয়ে কিভাবে এগোনো যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করব।’

কাজ করলেও তাতে ফল বের করার মতো জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, সেই সংশয় তবু রয়ে যাচ্ছে। কারণ পরিষ্কার বলে দেওয়া আছে যে এই শাস্তির বিরুদ্ধে কোনো পক্ষই আপিল করতে পারবে না। নিষেধাজ্ঞার প্রথম বছরে নতুন করে আর আইন না ভাঙলে পরের বছরের শাস্তি মাফ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে মাঠেও ফিরতে পারবেন তিনি। খেলতে পারবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও। কিন্তু একই বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে সাকিবের শাস্তি কমিয়ে আরো আগেই শেষ করার সম্ভাবনা আসলে কতটুকু?

আইসিসির রায়ে অবশ্য সামান্যতম সম্ভাবনাও নেই। তাই বলে এমনও নয় যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার নজির বিশ্বেই নেই। তবে সেগুলো ঘটেছে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রেই। পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমিরের কথাই ধরা যাক। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ছয় মাস আগেই মাঠে ফিরতে পেরেছিলেন তিনি। তবে তাঁকে শুধুই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। একই সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুলও। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও এঁরা কেউই তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার অনুমোদন পাননি। শুধু মাত্র ঘরোয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন। আশরাফুলের ক্ষেত্রে যেমন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেই (বিপিএল) ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। সাকিবের বিরুদ্ধেও আছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সময় (২০১৮-র আইপিএল) জুয়াড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ। সুতরাং আন্তর্জাতিক বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট নয়, বড়জোর ঘরোয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটেই ফেরার সুযোগ মিলতে পারে তাঁর। সেটিও মিলবে কি না, সময়ের হাতেই তোলা আছে এর উত্তর।

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক প্রকাশনা সমূহ

   সাম্প্রতিক খবর



»