ব্রেকিং নিউজ

শিক্ষাক্রমে বিশাল পরিবর্তন প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত

প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক (দ্বাদশ) স্তরের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ইতিমধ্যে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০২১ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠ্যবই দেওয়া শুরু হবে। এই পরিবর্তনে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গুরুত্ব পাবে।

কী পড়ানো হবে, কেন পড়ানো হবে, কে পড়বে, কারা পড়াবেন, কীভাবে পড়াবেন এবং পড়ার ফলে কী হবে, তার বিস্তারিত দিকনির্দেশনা থাকে শিক্ষাক্রমে। সর্বশেষ ২০১২ সালে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হয়েছিল। প্রায় সাত বছর পর আবারও শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তন আসবে। তবে জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা থাকলেও বিদ্যমান পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ধরেই এই স্তরের শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন করা হচ্ছে।

শিক্ষাক্রমের পরিবর্তনের কাজটি করছে এনসিটিবি। সেখানকার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথমআলোকে বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের প্রক্রিয়া গত বছরের শেষ দিকে শুরু হয়। আর মাধ্যমিক স্তরের (মাদ্রাসাসহ) কাজটি এ বছরের প্রথম দিকে শুরু হয়।

বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে সব মিলিয়ে পাঠ্যবই ৩৩টি এবং মাধ্যমিকে ৭১টি। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী ৪ কোটি ৪০ লাখ।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকের শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট সহযোগিতা করছে। এই স্তরের শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার জন্য শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একদল শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের ৪৫টি বিদ্যালয়ে টানা তিন মাস কাজ করেন। ইতিমধ্যে প্রাথমিকের শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়েছে।

এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমও হবে দক্ষতাভিত্তিক। যেমন একজন শিক্ষার্থী ইংরেজিতে কতটা বলতে পারল বা লিখতে পারল, সেটার ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে। এমনিভাবে অন্যান্য বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জন কীভাবে সম্ভব, তা বলা হবে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমে। এ ছাড়া যুগের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার জন্য ১৮টি জেলার ৩৬টি উপজেলার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হয়। পর্যালোচনার কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা বর্তমান শিক্ষাক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। মাধ্যমিকের তথ্য সংগ্রহের কাজ এ মাসের প্রথম দিকে শেষ হয়েছে। এখন তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চলছে। এর ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এরপর পরিমার্জনের কাজটি হবে।

সর্বশেষ ২০১২ সালে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হয়েছিল
প্রায় সাত বছর পর আবারও শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার 
২০২১ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠ্যবই দেওয়া হবে 
পরিবর্তনে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গুরুত্ব পাবে

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, আগামী বছরের মার্চের মধ্যে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজটি শেষ করা হবে। এরপর পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে পরের বছর (২০২১) প্রাথমিক স্তরের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ শ্রেণির বই দেওয়া হবে। ২০২২ সালে প্রাথমিকের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সপ্তম, নবম ও একাদশ শ্রেণির বই দেওয়া হবে নতুন শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে। এরপর ২০২৩ সালে পঞ্চম, অষ্টমসহ অন্য শ্রেণিগুলোর বই দেওয়া হবে নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে।

প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণিই থাকছে!
২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের করা জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা ছিল। এর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৬০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৩ হাজারের বেশি) ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর ২০১৬ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথ সভা করে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল। পরে এর ভিত্তিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যমান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা উঠিয়ে অষ্টম শ্রেণি শেষে সমাপনী পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করলে মন্ত্রিসভা তা নাকচ করে দেয়। এরপর আর বিষয়টি এগোয়নি।

তবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরেও আসেনি। বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। এর মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি রেখেই শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করছে সরকার। যদি এই স্তর অষ্টম শ্রেণি করা হতো, শিক্ষাক্রমের পরিবর্তনও সেভাবে ধারাবাহিকতা রেখে করা হতো। কিন্তু সেটা আর হচ্ছে না।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা-সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, পঞ্চম শ্রেণি ধরেই শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরে যখন সিদ্ধান্ত হবে, তখন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্যাপ্টেন হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন বিরাট কোহলি। এ উপলক্ষে বিশেষ জুতা হাতে পেলেন তিনি। তার জন্য ১৫০টি সোনালি স্পাইকের জুতা প্রস্তুত করেছে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান পুমা। এর নাম দেয়া হয়েছে গোল্ড স্পাইক এডিশন।

বুধবার বিশ্বকাপের দেশ ইংল্যান্ডের বিমান ধরেছে ভারতীয় দল। আগের দিন সোনালি স্পাইকের বিশেষ জুতা হাতে পান কোহলি। পেয়েই সোশ্যাল মিডিয়া টুইটারে ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। ইংল্যান্ডের মাটিতে এটি পরেই প্রতি ম্যাচে খেলবেন ভারতীয় অধিনায়ক। স্পেশাল এ জুতা তার ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারে কিনা, সেটিই এখন দেখার।

এই প্রথম কোনো ক্রিকেটারকে সোনালি স্পাইকের জুতা পরে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে। টুইটবার্তায় সেটি বক্স থেকে বের করার ভিডিও পোস্ট করে কোহলি লিখেছেন, বিশেষ জুতা পরে ইংল্যান্ডের মাটিতে নামতে মুখিয়ে আছি।

আগামী ৩০ মে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে গড়াবে বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর। ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের দেশে পৌঁছেছে টিম ইন্ডিয়া। ৫ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযানে নামবেন কোহলিরা। স্বাভাবিকভাবেই কাপ্তানের দিকে তাকিয়ে ভারতীয়রা।

নতুন নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসহ বিদ্যমান ডিজাইনে ১০০০ টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নিরাপত্তা সুতাটি নখের আঁচড়ে বা মুচড়িয়ে সহজে উঠানো সম্ভব হবে না। এর ফলে উচ্চ মূল্যমানের ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অধিকতর সুদৃঢ় হবে বলে মনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ১৬০ মিলিমিটার, ৭০ মিলিমিটার পরিমাপের ১০০০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য কার্যালয় থেকেও ইস্যু করা হবে।

নতুন নিরাপত্তা সুতাটি ইতোপূর্বে প্রচলনে থাকা নোটের নিরাপত্তা সুতা অপেক্ষা উন্নততর এবং এর কারিগরি প্রযুক্তিও নতুন; যা জাল নোট প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

নতুন প্রচলিত এ নোটটিতে বিদ্যমান ১০০০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটের রং এবং ডিজাইন অপরিবর্তিত রেখে শুধুমাত্র নোটের সম্মুখভাগের বামপাশের নিরাপত্তা সুতাটি পরিবর্তন করা হয়েছে।

নতুন এ নিরাপত্তা সুতাটি ৪ মি মি প্রশ্বস্ত এবং নোটে নিরাপত্তা সুতার ৪টি অংশ (উইন্ডো) দৃশ্যমান থাকবে। নোটটি বিভিন্ন দিকে ঘুরালে বা কাত করলে সুতার রং সোনালী থেকে হালকা সবুজ এবং গাঢ় সবুজ দৃশ্যমান হবে। অর্থাৎ, আলোর অবস্থান ও কৌণিক ভিন্নতার কারণে সুতাটির রং পরিবর্তিত হবে এবং ক্রোকোডাইল প্যাটার্ন গুলো কেন্দ্রীভূত ও বিকেন্দ্রীভূত হতে থাকবে।

এছাড়া নিরাপত্তা সুতার উপর ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ সোনালী রং-এ খচিত রয়েছে ও বাংলায় সাদা রং-এ ‘১০০০ টাকা’ লিখা রয়েছে; যা কতিপয় ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুতার দৃশ্যমান অংশে সম্পূর্ণ ও আংশিক এবং কতিপয় ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুতার ভিতরে অবস্থান করবে। নতুন নিরাপত্তা সুতাটি নখের আঁচড়ে বা মুচড়িয়ে সহজে উঠানো সম্ভব হবে না। 

নোটের রং, ডিজাইন ও অন্যান্য সকল নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (জলছাপ, ওভিআই কালিতে লেখা ‘১০০০’, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ৫টি বিন্দু, মাইক্রোপ্রিন্ট, খস্খসে লেখা, লুকানো ছাপা, নোটের পিছনের দিকে ইরিডিসেন্ট স্ট্রাইপ ইত্যাদি) অপরিবর্তিত থাকবে।

নতুন এই নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত ১০০০ টাকা মূল্যমানের অন্যান্য নোটসমূহ (শহীদ মিনার ও কার্জন হলের ছবি সম্বলিত হালকা লাল রংয়ের নোট এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সম্বলিত হালকা বেগুনী রংয়ের নোট) বৈধ ব্যাংক নোট হিসেবে যুগপৎ চালু থাকবে।



»