ব্রেকিং নিউজ

রেকর্ড বুকে ‘সাকিব-লিটন’

বিশ্বকাপের সেমির আশা জিয়ে রাখতে বাঁচা-মরা লড়াইয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষমেষ সেই লড়াইয়ে জয়ী টাইগাররা। এদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

আগে ব্যাট করে উইন্ডিজের দেয়া ৩২২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪১.৩ ওভারে ৫১ বল হাতে রেখে ৩ উইকেট হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচজয়ী (১২৪) রানের ইনিংস খেলেন সাকিব আল হাসান। ৬৯ বলে ৯৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন লিটন দাস।সেমি ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের সামনে ৩২২ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ (৯৬) রানের ইনিংস খেলেন শাই হোপ। এছাড়াও শিমরন হেটমায়ারের (৫০) ও এভিন লুইজের (৭০) রানের ওপর ভর করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২১ রান সংগ্রহ করে উইন্ডিজ।

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ভাসছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাইশ গজের লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। আর এসবের মাঝেই আইসিসির নিয়মিত হালনাগাদ হতে থাকা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

আইসিসি দেখাচ্ছে, এই সপ্তাহে ৩৮ ম্যাচে ৩২২৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের রেটিং হয়েছে ৮৫। যাতে টাইগাররা ৮ নম্বরে নেমে গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪১ ম্যাচে পয়েন্ট ৩৫২৯; রেটিং হয়েছে ৮৬। এই হিসাবের ফলেই বাংলাদেশকে টপকে ৭ নম্বরে চলে এসেছে উইন্ডিজ।অন্যদিকে, ক্রিকেট বিষয়ক বিখ্যাত ওয়েবসাইট ইএসপিএন-ক্রিকইনফো দেখাচ্ছে, ৩৮ ম্যাচে ৩৪৫৬ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের রেটিং ৯১। ফলে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ৭ নম্বরেই আছে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪২ ম্যাচে ৩২৯৪ পয়েন্ট পেয়েছে। ফলে তাদের রেটিং ৭৮।

এক্ষত্রে বলাই বাহুল্য, গত কিছুদিনে বাংলাদেশ তিনবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার কোনো কারণ নেই। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ অনেক ওপরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের পয়েন্ট বাড়াই উচিত।

কোপা আমেরিকায় শুরুটা ভালো হলো না আর্জেন্টিনার। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে গেছে আসরের বর্তমান রানার আপ দলটি। ব্রাজিলের ফন্তে নোভা অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছে ফ্যালকাও-রদ্রিগেজরা।

ভাগ্য পরিবর্তেন মিশন নিয়ে ব্রাজিলে এসেছিল আর্জেন্টিনা। ১৯৯৩ সালের পর ফুটবলের বড় কোনো ট্রফি নেই আর্জেন্টিনার শোকেসে। সেবার সর্বশেষ কোপা আমেরিকা জিতেছিল দলটি। এরপর বিশ্বকাপসহ দুবার কোপার ফাইনালে খেলেছে সাদা-আকাশি জার্সিধারীরা। তবে ভাগ্য কোনোইবারই সঙ্গ দেয়নি তাদের।

এবারের কোপার প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোনো প্রকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি লিওনেল মেসির দল। পুরো সময় জুড়ে নিজেদের খুঁজে ফিরেছেন আগুয়েরো-ডি মারিয়ারা। পুরো ম্যাচে মেসি ছিলেন নিস্প্রভ।

ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক খেলার মনোভাব নিয়েই নেমেছিল দুদল। তাই ম্যাচের প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তবে এই অর্ধে বল দখলের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন আগুয়েরো। তবে কলম্বিয়ার আঁটোসোটো রক্ষণভাগের কারণে ব্যর্থ হন তিনি। ১৬ত মিনিটে মার্টিনেজের ভুলে গোল পায়নি কলম্বিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্যর্থতা ঝেড়ে জেগে ওঠে দুই দলই। ৫৫তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। আগুয়েরোর সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বক্সের মধ্যে ঢুকে দারুণ দক্ষতায় সুযোগ তৈরি করেছিলেন মেসি। তবে গোল আর হয়নি। ৬৬তম মিনিটে ওটামেন্ডির জোরালো হেড কোনোমতে ফিরিয়ে দেন কলম্বিয়ান গোলরক্ষক ওসপিনা।

৭১তম মিনিটে কাজের কাজটি করে ফেলে কলম্বিয়া। অনেকটা একক প্রচেষ্টায় বাম প্রান্ত দিয়ে ঢুকে ডি বক্সের কোণা থেকে দারুণ এক শট নেন মার্টিনেজ। বল খুঁজে পায় আর্জেন্টিনার জাল। ৮৬ মিনিটে আর্জেন্টিনার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ডুয়ান সাপাতা। আর তাতেই ২-০ গোলে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিদের। দুই গোল হজম করার পরেও বেশ কিছু ভালো আক্রমণ তৈরি করেছিলেন মেসিরা। কিন্তু সেগুলো জালের দেখা পায়নি।

২০ জুন পরবর্তী ম্যাচ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে মেসির দল।

বিশ্বকাপে আজ বিকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।

সাউদাম্পটনে রোজবল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে।ক্যারিবীয়দের ‘বিস্ফোরক’ আখ্যা দিয়ে এ ম্যাচে কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখছেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান। জানিয়েছেন, পুরোপুরি ফিট আছেন জশ বাটলার, একাদশে ফিরছেন মঈন আলী। 

এদিকে প্রতিপক্ষের চেয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চিন্তার কারণ বৃষ্টি।

ব্রিস্টলে তিনটি দিন শুধু বেড়ানোই হলো বাংলাদেশ দলের। খেলতে এসে কেবল একদিন অনুশীলন করে আরেক শহরে চলে যাওয়াটাকে তো বেড়ানোই বলতে হয়!

বৃষ্টিতে মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলতে আজ দল যাবে টন্টনে। সঙ্গে যাবে ১ পয়েন্ট খোয়ানোর হতাশা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে ম্যাচটা জিতবে বলেই ভেবেছিল বাংলাদেশ দল!

তবে সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক হাবিবুল বাশার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১ পয়েন্ট কম পাওয়াটাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না। তিনি মানছেন, ম্যাচটা হলে ব্রিস্টল থেকে জয় নিয়ে টন্টন যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে না হওয়ায় যে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে যাওয়ার দৌড় থেকে অনেক পিছিয়ে গেছে, তা মনে করছেন না, ‘আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি, কোনো নির্দিষ্ট দলকে টার্গেট করে আমরা সেমিফাইনালে যেতে পারব না। আমাদের শক্তিশালী দলকেও হারাতে হবে। সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, ভারতের মতো দলের বিপক্ষে খেলা বাকি। সেগুলোতেও জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে হবে।’

শুধু লক্ষ্য বেঁধে দিয়েই শেষ করেননি হাবিবুল। তাঁর বিশ্বাস বড় দলকে হারানোর সামর্থ্যও আছে মাশরাফি-সাকিবদের, ‘কাগজ-কলমে হয়তো শ্রীলঙ্কাকে আমাদের পক্ষে হারানো সহজ ছিল। সেদিক দিয়ে হয়তো আমরা একটা পয়েন্ট মিস করেছি। কিন্তু খেলা যেহেতু হয়নি, এখন তো কিছু করার নেই। আমরা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছি। আমার বিশ্বাস অন্য বড় দলকে হারানোরও সামর্থ্য আমাদের আছে।’

আয়ারল্যান্ড সফর থেকেই দলের সঙ্গে থেকে হাবিবুলের উপলব্ধি—এই দলের অন্তত আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই। দলের ম্যানেজার আরেক সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদেরও একই বিশ্বাস, ‘বিশ্বকাপের জন্য আমাদের প্রস্তুতি খুবই ভালো। একটি ম্যাচ জিতলেও আমরা কিন্তু এর পরের ম্যাচেও ভালো খেলেছি। ছেলেদের ওপর বাড়তি চাপ দিতে চাই না। সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলেই ওরা পরের ম্যাচগুলোতে ভালো খেলবে।’

ব্রিস্টলে খেলা না হওয়ায় এখন পরের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে মরিয়া বাংলাদেশ। শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ কেন, হাবিবুলের মতো মাহমুদের চোখও অন্য বড় দলগুলোর দিকে, ‘সব মিলিয়ে আমাদের অন্তত ৯টি ম্যাচ খেলতে হবে। ফরম্যাটটা খুব কঠিন। সেমিফাইনালে যেতে হলে আমাদের বিশ্বসেরা দলগুলোকে হারিয়েই যেতে হবে। আফগানিস্তানকে তো হারাতেই হবে।’

সেমিফাইনালে যেতে হলে পাঁচটি ম্যাচ অন্তত বাংলাদেশকে জিততেই হবে। তার মানে বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে জিততে হবে কমপক্ষে চারটিতে। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান ও আরেক সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানের কথায়ও লক্ষ্যটা পরিষ্কার, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের পুরো পয়েন্ট নিতেই হবে। সঙ্গে বড় একটা দলকেও হারাতে হবে।’

তবে ব্রিস্টল থেকে পুরো ২ পয়েন্ট নিয়ে যেতে না পারায় একটু আফসোস আছে তাঁর, ‘আমাদের কিছু টার্গেট করা দল আছে, যাদের আমরা হারাতে চাই। আশা ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতব। তবে বৃষ্টির ওপর তো কারও হাত নেই। আইসিসি রিজার্ভ ডে রাখেনি। এ নিয়ে কিছু বলারও নেই।’

না পাওয়ার হতাশা থাকবেই। কিন্তু বাংলাদেশ দলের লক্ষ্যটা যেহেতু অনেক বড়, হতাশা ঝেড়ে ফেলে সামনে তাকানোটাই এখন সময়ের দাবি।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে দারুণ আশাবাদী সবাই। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের আসরে সব দলকেই টেক্কা দেবে বাংলাদেশ। অনেকে তো মাশরাফি-সাকিবদের সেমিফাইনালেও দেখতে পাচ্ছেন। তবে টাইগার দলটিকে নিয়ে মোটেও আশাবাদী নন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। কিউই এই অধিনায়ক মনে করেন এবারের আসরে বাংলাদেশ দলের ভরাডুরি হবে। ম্যাককালাম ভবিষ্যতবাণী করেছেন, কেবল শ্রীলংকার বিপক্ষেই জিতবে বাংলাদেশ। হারবে বাকি আট ম্যাচে।

এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব নিয়ে বিস্তর ব্যাখা বিশ্লেষন করেছেন ম্যাককালাম। আর সেটার ফলাফল ইনস্ট্রাগ্রামে পোস্ট করেছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ও ভারতকে সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছেন তিনি। সাবেক কিউই ব্যাটসম্যানের হিসাব মতে, গ্রুপ পর্বে আটটি করে ম্যাচ জিতবে দল দুটি। তিনি মনে করেন, ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারবে আর ভারতের বিপক্ষে জিতবে।

গ্রুপ পর্বের ছয়টি ম্যাচে জিতবে অস্ট্রেলিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে হারবে অ্যারন ফিঞ্চের দল। তিনটি দল পাঁচটি করে ম্যাচে জিতবে বলে ম্যাককালাম মনে করছেন। দল তিনটি হলো নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

ম্যাককালামের হিসাব মতে এবারের বিশ্বকাপে শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের চেয়ে ভালো খেলবে আফগানিস্তান। তার হিসাবে বেঙ্গল ও লংকান টাইগারদের বিপক্ষে জিতবে আফগানরা। ম্যাককালাম আরো বলেন, এবাবের বিশ্বকাপে বৃষ্টি বেশ ভোগাবে দলগুলিকে।

ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ড স্টেডিয়ামে শনিবার অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ২০১৯’র চতুর্থ ম্যাচ। আর এই ম্যাচটিকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না দুই দলের কেউই। বলা যায়, স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নার ফিরে আসায় অস্ট্রেলিয়া এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এ বারও ফেভারিট টিম হিসেবেই ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি আফগানিস্তানও তৈরী চমক দিতে।

আফগানিস্তানের মুহাম্মদ নবী এবং রশিদ খান তো বিশ্ব ক্রিকেটে এখন অন্যতম সেরা মুখ। বিশেষ করে রশিদ। তার স্পিন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিশ্বের তাবড়-তাবড় ব্যাটসম্যানরা। অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল পর্যন্ত বলে দিয়েছেন, রশিদকে সামলানো বেশ কঠিন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সাথে ওয়ার্ম আপে তাদের শেষ ম্যাচ ভালো না হলেও দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসী আফগানিস্তান। আর সেই জায়গাটা থেকে আফগানিস্তানকে হতাশ করাটা খুব সহজ হবে না বলেই আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আইসিসির টুর্নামেন্টের উপস্থিতি, অভিজ্ঞ দল, আর মর্যাদার দাপট ধরে রাখতে মাঠে বেশ দাপুটে বেশেই দেখা যাবে আফগান সৈন্যদের।

বিশ্বকাপে অভিষেকের অপেক্ষায় পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে এই পেস তারকাকে নাও পেতে পারে পাকিস্তান। পাকিস্তানের গণমাধ্যম বলছে, দলের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ মিকি আর্থার ২৭ বছর বয়সী আমিরকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দলীয় অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ বলেছেন, আমির ফিট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত ওয়ানডে সিরিজে দলে থাকলেও জলবসন্তের কারণে কোনো ম্যাচ খেলতে পারেননি আমির (একটি ম্যাচে একাদশে ছিলেন, পাকিস্তান ফিল্ডিংয়ে নামার আগেই ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়)। ওই সিরিজে পাকিস্তানের বোলিং ছিল নখদন্তহীন। প্রতিটি ম্যাচেই ৩০০’র বেশি রান তুলে ইংল্যান্ড। 
দুটি ম্যাচে বড় স্কোর (৩৪০ ও ৩৫৮) গড়েও জিততে পারেনি পাকিস্তান।

এরপরই ওয়াহাব রিয়াজের সঙ্গে পাকিস্তানের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়াগা করে নেন আমির। নিজের শেষ ১৪ ওয়ানডেতে মাত্র ৫ উইকেট পেয়েছেন আমির। তবু ইংলিশ কন্ডিশনের কাথা মাথায় রেখে বাঁহাতি এ পেসারকে দলে রেখেছে পাকিস্তান। দুবছর আগে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে এক স্পেলেই ভারতের টপঅর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন বাঁহাতি এ পেসার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তানের বোলিং বিভাগের নেতৃত্ব দেবেন আরেক বাঁহাতি ওয়াহাব রিয়াজ। প্রস্তুতি ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ বোলিং করেন ওয়াহাব। বিশেষ করে ডেথ ওভারে ওয়াহাবের স্পেল ছিল দেখার মতো। ওয়াহাবের সঙ্গে ডানহাতি হাসান আলীর দিকে তাকিয়ে থাকবে পাকিস্তান। মিডল ওভারে গত দু-তিন বছর ধরে পাকিস্তানের সেরা বোলার হাসান। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সর্বাধিক উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। 

ওদের হাতে বিশ্বকাপ মশাল। ওদের কাছে ১৬ কোটির প্রত্যাশা। ওরাই স্বপ্নের ধারক। ওরা বাংলার টাইগার। ওরা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নসারথি। ওদেরই একজন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ খেলোয়াড়কে নিয়ে প্রতিদিন লেখা প্রকাশ করছে রাইজিংবিডি’র ক্রীড়া বিভাগ। আজ পড়ুন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের গল্প, লিখেছেন আমিনুল ইসলাম।

সনাথ জয়সুরিয়া, কেভিন পিটারসেন, শোয়েব মালিক, স্টিভ স্মিথ ও অন্যান্যদের মতো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল একজন বোলার হিসেবে। তারপর তিনি নিজেকে ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে বল হাতেও কার্যকরী অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারেন।

সেঞ্চুরিয়নে তার করা ১০৩ রানের অনবদ্য ইনিংসে ভর করে ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচ ছাড়া যেসব ম্যাচে তিনি ব্যাট হাতে ভালো করেছিলেন সেখানে অন্য কেউ নায়ক বনে গেছে। তাকে হতে হয়েছে সাইড নায়ক। এবার বিশ্বকাপে তিনি পারবেন কী বাংলাদেশের নায়ক হতে? বড় ম্যাচের তারকা খ্যাত সাইলেন্ট কিলার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ঘিরে ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশাও কম নয়।
 


মাহমুদউল্লাহর জন্ম ময়মনসিংহে। সেখানেই তার ক্রিকেটের হাতেখড়ি হয়। ২০০০ সালে তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টে সুযোগ পান। এরপর ২০০৪ সালে তিনি ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও খেলেন। একই বছর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অভিষেক হয় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে। ২০০৫-০৬ মৌসুম থেকে নিয়মিত ক্লাব ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন।

১৯ বছর বয়সে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে তার অভিষেক হয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে তার অভিষেক ম্যাচে ৫৫ ও ৪২ রান করেন। ২০০৭ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার ওয়ানডে অভিষেক হয়। অভিষেক ম্যাচে বল হাতে তিনি ২ উইকেট নেন। আর ব্যাট হাতে করেন ৩৬ রান। অভিষেক ম্যাচে তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়ে বাংলাদেশের কেনিয়া সফরেও তাকে রাখা হয় এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলেও সুযোগ দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে তিনি দল থেকে বাদ পড়লেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করে আবার জাতীয় দলে ডাক পান।

২০০৯ সালের জুলাইতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের টেস্ট অভিষেক হয়। সাদা পোশাকে অবশ্য দারুণ সূচনা করেন তিনি। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও বল হাতে দুই ইনিংসে নেন ৮ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়ে অবদান রাখেন। ৮ উইকেট শিকার এখনো তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার।
 


ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর লংগার ভার্সনে ব্যাট হাতে ছন্দ খুঁজে পান তিনি। টানা পাঁচ ম্যাচে পঞ্চাশের অধিক রান করেন। সেবার তিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান।

ওয়ানডেতে ৭ নম্বরে ব্যাটিং করে তিনি অনেক রান করেছেন। ২০১১ বিশ্বকাপে শফিউল ইসলামকে নিয়ে দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। বিশ্বকাপের পর তাকে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল।

এরপর ২০১৪ সালটি তার ভালো যায়নি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও হাসেনি তার ব্যাট। তবে ২০১৫ সালে তিনি নিজেকে ফিরে পান। সে কারণে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পান। ২০১৫ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি (১০৩) হাঁকিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন বাংলাদেশকে। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ১২৮ রান। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করেন তিনি। বিশ্বকাপের সাত ইনিংসে ৩৬৫ রান করেছিলেন তিনি।

এবার বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ আরো অভিজ্ঞ। আরো পরিণত। বড় মঞ্চের তারকা এবার বিশ্বকাপ কিভাবে রাঙান দেখার বিষয়। তবে তার নায়ক হওয়ার সুযোগ রয়েছে এই বিশ্বকাপে।

বাতাসে গুঞ্জন, আজই বরখাস্ত হচ্ছেন বার্সেলোনার কোচ আরনেস্তো ভালভার্দে। ওদিকে রিয়াল বেতিস থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর এনরিকে ‘কিকে’ সেতিয়েন এখন মুক্ত। সেতিয়েনের খেলানোর দর্শনে মুগ্ধ অনেক বার্সা সমর্থকও। দুয়ে দুয়ে চার কি মিলবে তাহলে?

এই মৌসুমেই বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছিলেন আরনেস্তো ভালভার্দে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে অভাবনীয় বিদায় আর কোপা ডেল রের ফাইনালে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে শিরোপা খোয়ানো বার্সেলোনায় ভালভার্দের ভবিষ্যৎকে বেশ শঙ্কার মুখেই ফেলে দিয়েছে। বোর্ড সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তামেউ এখনো ভালভার্দের ওপর আস্থা রাখলেও কানাঘুষো বলছে, আগামী মৌসুমের জন্য বিকল্প কোচ খুঁজছে বার্সেলোনা।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো আজ দিনের শুরু করেছে একটি খবর দিয়ে। আর সেটি হলো আজই চাকরিচ্যুত হবেন ভালভার্দে। তাঁর জায়গায় দুজন স্প্যানিশ কোচের উচ্চারিত হচ্ছে। অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম বলছে রবার্তো মার্টিনেজের কথা। বেলজিয়াম জাতীয় দলের কোচের সঙ্গে এনরিকে সেতিয়েনের নামও শোনা যাচ্ছে। সেতিয়েনের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে, সাবেক বেতিস কোচ এখন পুরোপুরি বেকার।

নামে চিনতে না পারলেও পরিচয় দিলে অবশ্যই চেনার কথা এই স্প্যানিয়ার্ড কোচকে। সেতিয়েনের অধীনে গত দুই মৌসুম ধরে লা লিগায় দারুণ ফুটবল খেলেছে রিয়াল বেতিস। দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মৌসুমেই বেতিসকে ইউরোপা লিগে নিয়ে গেছেন। দারুণ একটি ব্যক্তিগত অর্জনও হয়েছে সেতিয়েনের, একই মৌসুমে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে গিয়ে ম্যাচ জিতে ফিরেছেন। গত নভেম্বরে ন্যু ক্যাম্পে গিয়ে জিতে ফিরেছেন ৪-৩ গোলে, লিগের শেষ ম্যাচে বার্নাব্যুতে গিয়েও জিতেছেন ২-০ গোলে। ২০০২ / ০৩ মৌসুমের পর স্পেনের দুই জায়ান্টকে তাদের মাঠে এই প্রথম কেউ হারাল। তবু লিগে দশম হওয়ার কারণে চুক্তির এক বছর বাকি থাকতেই সেতিয়েনকে বিদায় বলে দিয়েছে বেতিস।

আগামী মৌসুম শুরু হতে এখনো বেশ কিছু সময় বাকি আছে। তবে তাই বলে গুঞ্জন তো আর থেমে নেই। বেশ কয়েকটি স্প্যানিশ গণমাধ্যম বলছে, মৌসুমের শেষভাগে দুটো শিরোপা হাত থেকে ফসকে যাওয়ায় চাকরি হারাচ্ছেন ভালভার্দে। সে জন্যই অনেকে দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে বলছেন, পরবর্তী মৌসুমে বার্সার ডাগআউটে সেতিয়েনকে দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বেতিসে দুই বছরে ৯৪টি ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ৪০ ম্যাচে জয় নিয়ে ফিরেছেন সেতিয়েন। তবে জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় হয়ে উঠছে সেতিয়েনের কোচিং দর্শন। অনেক বার্সা সমর্থকের দাবি, সেতিয়েনের খেলানোর ধরন বার্সেলোনার ফুটবল দর্শনের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। টানা দুটি লিগ জিতলেও রক্ষণাত্মক ধরনের কারণে নিজ দলের সমর্থকদের কাছেই বেশ সমালোচিত হয়েছেন ভালভার্দে। সে ক্ষেত্রে ভালভার্দের জায়গায় সেতিয়েনকে কোচ হিসেবে নিয়ে আসার সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়েও দেওয়া যাচ্ছে না। গুঞ্জনের পালে আরও হাওয়া লাগিয়েছেন সেতিয়েন। বার্সেলোনার কোচ হতে চান কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বেতিসের সাবেক এই কোচ বলেছেন, ‘বার্সেলোনাকে কোচিং করাতে পারলে আমি খুশিই হব।’

বর্তমান কোচ ভালভার্দের পারফরম্যান্সে খুশি হতে পারছেন না বেশির ভাগ বার্সা সমর্থক। এই নিয়ে টানা দুই মৌসুমে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার পরেও চ্যাম্পিয়নস লীগ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। বিশেষ করে অ্যাওয়ে ম্যাচে অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়াটা হিতে বিপরীত হয়েছে ভালভার্দের জন্য। গত মৌসুমে রোমার বিপক্ষে ৩ গোলের অগ্রগামিতা ধরে রাখতে পারেনি তাঁর দল, এই মৌসুমেও লিভারপুলের বিপক্ষে একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে তাঁকে। যে কারণে দুই মৌসুমে চারটি শিরোপা এনে দিলেও ভালভার্দের বিদায় চাচ্ছেন অনেকেই।

সেতিয়েন-মার্টিনেজ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন কোচের সঙ্গে নাম জড়াচ্ছে বার্সেলোনার। বিশেষ করে এই মৌসুমে দারুণ প্রাণবন্ত ফুটবল খেলা আয়াক্সের কোচ এরিক টেন হাগ ও নিজেদেরই সাবেক খেলোয়াড় রোনাল্ড কোম্যানের ব্যাপারে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ভালভার্দে নিজের আসন ধরে রাখতে পারবেন কি না, না কি কোচ হিসেবে আসবেন নতুন কেউ, এটিই এখন বার্সা সমর্থকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।



»