ব্রেকিং নিউজ

সংসদ চাইলেই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ছিনিয়ে নেব: ভারতের সেনাপ্রধান

দেশের ২৮তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দিনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যে চেয়ারে বসে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন তার ওপর ছিল বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া চুক্তির ছবি। আর এভাবেই নতুন বছরের শুরুতেই স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আগামীর লক্ষ্য! 

পরিষ্কার বলেছিলেন, নির্দেশ পেলে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালাবে ভারতীয় সেনাবাহিনী। আর তারপর থেকে তা ভারতের মধ্যেই থাকবে।শনিবার ফের একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন দেশের নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে।

একটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সেনারা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালানোর জন্য সবরকমভাবে তৈরি রয়েছে। সংসদ চাইলেই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ছিনিয়ে নেব আমরা। তারপর থেকে তা ভারতের অধীনেই থাকবে। কারণ এই বিষয়ে সংসদে আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্ত অংশ ভারতের অন্তর্গত। সেই অনুযায়ী, পাকিস্তানের দখল করে নেওয়া অংশও রয়েছে। তাই নির্দেশ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে সেনাবাহিনী।’

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) যখন উপলব্ধি করেছে বিসিবি কিছুতেই নিজেদের অবস্থান থেকে সরবে না, তখন তারা অন্য আরেকটি ‘ডেলিভারি’ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। এতে নতুন বাঁক নিয়েছে বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরের ‘বিষয়টি’। বিসিবি আগে থেকেই বলে আসছে, পাকিস্তানে তাঁরা শুধু তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে, টেস্ট সিরিজটা খেললে পরে অথবা হতে পারে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। আজ পিসিবি বিসিবিকে প্রস্তাব দিয়েছে, টেস্ট আগে হয়ে যাক, টি-টোয়েন্টি বরং পরে খেলা যাবে।

পাকিস্তান সফরের জটিলতা নিরসনে পিসিবি প্রধান এহসান মানির সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের। সে কথার প্রেক্ষাপটে আজ সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে বাংলাদেশ দলের সিনিয়র ক্রিকেটার ও কয়েকজন পরিচালককে নিয়ে বসেছিলেন নাজমুল। আলোচনা করেছেন পিসিবির নতুন প্রস্তাব নিয়ে।

এত দিন বিসিবি চাইছিল শুধুই টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে, যাতে সংক্ষিপ্ত সময়েই শেষ করে আসা যায় পাকিস্তান সফর। কিন্তু পিসিবি চাইছিল পূর্ণাঙ্গ সফরেই আসুক বাংলাদেশ। পিসিবি যখন উপলব্ধি করেছে বিসিবি কিছুতেই নিজেদের অবস্থান থেকে সরবে না, তখন অন্য আরেকটা ‘ডেলিভারি’ দিয়েছে তারা।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম টি-টোয়েন্টি খেলে চলে আসব। পরে টেস্ট খেলব। ওরা বলছে টি-টোয়েন্টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, এটা তো আর আইসিসি চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। এখানে টেস্ট হচ্ছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওরা বলছে টেস্ট খেল, টি-টোয়েন্টি পরে খেলা যাবে। আজ আমি সবাইকে বিষয়টি জানালাম। কাল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে (পাকিস্তান সফর নিয়ে)।’

শুধু আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশই নয়; পিসিবি হয়তো ভাবছে, পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি কিংবা পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) প্রায় নিয়মিতই হচ্ছে। পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভালোভাবে ফেরাতে টেস্টই হতে পারে সবচেয়ে ভালো উপায়। শ্রীলঙ্কার পর বাংলাদেশের বিপক্ষেও যদি টেস্ট আয়োজন করা যায়, সেটি হতে পারে তাদের কাছে খুব কার্যকর ঢাল, যা পরে ব্যবহার করা যাবে অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও। আর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে পাকিস্তানের অবস্থানও খারাপ নয়, ৪ ম্যাচে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে আছে চারে। বাংলাদেশকে হারাতে পারলে পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান হবে আরও শক্ত।

শুধু টেস্ট সিরিজ খেলতেই নয়, যদি প্রস্তাব এমন হয়—১ টেস্ট ও ৩ টি-টোয়েন্টি হবে, তাতেও খুব বেশি আপত্তি নেই বিসিবি সভাপতির, ‘হতে পারে এক টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আমরা চাইছি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সেখানে যেতে। এমন সূচি হলেও তো সমস্যা হচ্ছে না।’

বিসিবি যদি পিসিবির নতুন প্রস্তাবে রাজি হয়, টি-টোয়েন্টি সিরিজটা হতে পারে অক্টোবরে বিশ্বকাপের আগে কোনো সময়। আজ নিজেদের মধ্যে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কাল বিসিবি জানিয়ে দিতে পারে পাকিস্তান সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন বিরোধীরা। ‘আজাদি মার্চ’-এর ব্যানারে হাজারো বিক্ষোভকারী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনে দাবির বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাঁর পদত্যাগ ছাড়া সব দাবি মেনে নিতে রাজি আছেন। আজ মঙ্গলবার দেশটির জিও টিভির অনলাইনে এ খবর জানানো হয়।

গত ২৭ অক্টোবর সিন্ধু প্রদেশ থেকে আজাদি মার্চের ব্যানারে দাবির পক্ষে গাড়ি শোভাযাত্রা বের করা হয়। ৩০ অক্টোবর সেই গাড়িবহর পাঞ্জাব ছেড়ে লাহোরে পৌঁছায়। আর ৩১ অক্টোবর গাড়িবহরটি ইসলামাবাদে পৌঁছে দাবির পক্ষে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানায়।

গত শুক্রবার ক্ষমতাসীন তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নেতারা ঝাঁজালো বক্তব্য দেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দেন। পরে অবশ্য সময় বাড়ানো হয়। জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান জানান, সরকারের আলোচনা কমিটির সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজও সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা চলমান রয়েছে। সরকারবিরোধী রাহবার কমিটির আহ্বায়ক আকরাম দুয়ারানি বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবির পক্ষে অনড়।’

এদিকে আজ বিরোধীদের দাবি মেনে নিতে সরকারি কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী নিজের পদত্যাগ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের সব দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আলোচনায় বসতে রাজি আছেন তিনি।

এর আগে পাকিস্তানে গণতন্ত্র ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগ চায় বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। এ জন্য দেশব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকার আপস করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিলাওয়াল।

রক্ষণশীল ধর্মীয় সংগঠন জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) দলের নেতা ফজল-উর-রেহমানের ইমরান খান বিরোধী এই প্রচারণায় সমর্থন জানিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং বেনজির ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো। তবে কোনো ধরনের অসাংবিধানিক পদক্ষেপকে তারা সমর্থন করবে না বলে জানিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার সরকারকে হটাতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। দেশটির বিরোধী দলগুলো এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাক সেনাবাহিনী জানিয়েছে তারা কোনো দলের পক্ষ নেবে না। সংবিধান ও আইন রক্ষার স্বার্থে তাদের সমর্থন নির্বাচিত সরকারের প্রতিই থাকবে। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আসিফ গফুর বলেছেন, আমরা আইন ও সংবিধানে বিশ্বাস করি। কোনো দলকে সমর্থন করা আমাদের কাজ নয়।

এদিকে, গত শুক্রবার রাতে লাখো জনতার অবস্থান থেকে পদত্যাগে ইমরান খানকে দুই দিনের সময় দিয়েছেন দেশটির বিরোধী দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ইমরান যদি এই সময়ের মধ্যে পদ থেকে সরে না দাঁড়ান, তবে ভিন্ন কৌশল নিতে আমরা বাধ্য হব। এরপরে আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাবে।পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডন জানায়, বিরোধীদের এমন কঠোর অবস্থানের কারণে অনেকটা নড়েচড়ে বসেছে ইমরান সরকার। মাওলানার এ ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। আগে থেকে বন্ধ থাকা গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশাপাশি ছোট রাস্তাগুলোও বন্ধ করা হয়েছে।

শনিবার সকালে আলোচনার জন্য গঠিত সরকারি কমিটি জরুরি বৈঠক করে। সেখান থেকে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নেন তারা। পিপলস পার্টির নেতাদের মাধ্যমে মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গে মীমাংসায় যাচ্ছে ইমরান প্রশাসন।

নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতায় আসার অভিযোগে ইমরান খানকে অপসারণের দাবিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান এই আজাদি মার্চের ডাক দিয়েছেন। গত সোমবার করাচি থেকে শুরু হওয়া এ আজাদি পদযাত্রা বৃহস্পতিবার রাজধানী ইসলামাবাদ পৌঁছায়।

বিরোধী দলীয় নেতা মাওলানা ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বিরোধী আজাদি মার্চে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে। লাখো জনতার বহর নিয়ে এদিন ইসলামাবাদে ঢুকেন মাওলানা ফজলুর রহমান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ক্ষমতায় আসার ১৮ মাসের মাথাতেই বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। এই বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগই জামিয়াত উলেমা-ই ইসলাম ফজল-উর-রেহমান এর সদস্য। এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ইসলামী দলগুলোর একটি। ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিতে আসা ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে সারাদেশ থেকে এসেছেন তারা। কিন্তু যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো সেটি হচ্ছে এই বিক্ষোভে কোনো নারী নেই!

তবে নারীদের না থাকাটা ভুল করে হয় নি। গত সপ্তাহে এই আজাদি মার্চ বা মুক্তির বিক্ষোভের জন্য যে লিফলেট ছড়ানো হয়েছিল তাতে নারীদেরকে বিক্ষোভে না এসে বরং ঘরে থেকে রোজা রাখতে ও দোয়া করার কথা বলা হয়েছে। আর এটা কাজও করেছে।বিবিসির উর্দু প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার জেইউআই-এফ এর গাড়িবহরে কোনো নারী ছিল না। শুক্রবার অন্য বিরোধী দলগুলোর সাথে মিলে রাজধানীতে গণবিক্ষোভের দিনেও আরেকটি নির্দেশ জারি হওয়ার কথা শোনা গেছে। আর তা হলো, এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে নারী সাংবাদিকদের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। অনেক নারী সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলেও তাদেরকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। অনেকে আবার অভিযোগ করেছেন যে, তারা এমন হয়রানির শিকার হয়েছেন যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় ছিল না।



»