ব্রেকিং নিউজ

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

জেনারেল কাসেম সোলেমানি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। এরই মধ্যে বুধবার ইরাকের দুই মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তারই জের ধরে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো ট্রাম্প সরকার।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভ মিউচিন জানিয়েছেন, ইরাকে মার্কিন সেনার উপর তেহরানের হামলার ফলস্বরূপ এ নিষেধজ্ঞা জারি করা করা হয়েছে বলে। শুক্রবার মিউচিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।নতুন পদক্ষেপগুলোর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ‘অস্থিতিশীল’ কার্যক্রমে জড়িত ইরানের আট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও মঙ্গলবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে টার্গেট করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন নিষেধাজ্ঞায় মূলত ইরানের শিল্পখাতকে টার্গেট করা হয়েছে। এছাড়া দেশটির বস্ত্র, খনি, নির্মাণ, ইস্পাত ও লোহা শিল্পের মতো খাতগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।

ইরানকে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসীদের মদদদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ঘাঁটি ও সেনাদের হুমকিতে ফেলার জন্য দায়ী করা হয় ইরানকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার ঘটনায় আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের প্রতিশোধ’ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তারই জের ধরে বুধবার ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের এরবিল ও আল-আসাদ বিমান ঘাঁটিতে ভয়াবহ মিসাইল হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে ৮০ মার্কিন সেনা নিহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সামরিক সরঞ্জামের- এমনটাই দাবি ইরানের।

এদিকে, আমেরিকার সঙ্গে কোনো শর্ত ছাড়া আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। এ বিষয়ে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ তখত রাভানচি বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে আবার আলোচনার আহবান অবিশ্বাস্য। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।    জাতিসংঘের কাছে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে ইরানের রাষ্ট্রদূত মাজিদ রাভানচি জানান, তিন জানুয়ারি ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন ধারাবাহিক উত্তেজনা ও শত্রুতার সূচনা করেছে। তবে ইরান কোনো যুদ্ধ কিংবা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। সেই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের ৫১ ধারা উল্লেখ করে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে।  

এর আগে, জাতিসংঘে দেয়া এক চিঠিতে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে ইরানের সঙ্গে কোনো শর্ত ছাড়াই আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া ওই চিঠিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেলি ক্র্যাফট জানান, ইরানের দ্বারা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা যাতে হুমকির মুখে না পড়ে এবং উত্তেজনা যাতে বৃদ্ধি না পায় সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। ওই চিঠিতে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার যুক্তি হিসেবে নিজেদের রক্ষা করার জন্যই এ কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তেহরানে ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করছে বলে দাবি করেছে ইরান। গত ৮ জানুয়ারি ওই বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ১৬৭ জন যাত্রী ও ৯ ক্রু সদস্য ছিল। বিমানে ৮২ জন ইরানি, ৬৩ জন কানাডিয়ান, ১১ ইউক্রেনিয়ান, ১০ সুইডিশ, ৪ আফগান, ৩ জার্মান ও ৩ ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। 

বিমান দুর্ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে ইরান সরকার। এতে দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেন্টাগনের সূত্র দিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেহরানে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ মিথ্যা এবং কেউ এ মিথ্যার দায় শিকার করেনি।

মিথ্যা বলা বন্ধ করে বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিথ্যাচার শোকাহত পরিবারের বেদনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।

ইরাকে দুইটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার ভোররাতে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। 

বিবৃতিতে ইরান বলেছে, মিসাইল হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরণের হামলা চালালে মার্কিন ভূখণ্ডে হামলা করা হবে।এদিকে, ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ দেশটির ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে তাকে বিশাল জনসমাগমের সামনে বলতে শোনা যাচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত আমাদের আঘাত করবে। কিন্তু আমরা তাদের আরো বেশি আঘাত করবো। খামেনি বলেন, ‘আমি এক সময়

বলেছিলাম, হিট এন্ড রান (হামলা করে লুকিয়ে পড়া) এর সময় শেষ। তোমরা যদি আঘাত করো আমরাও পাল্টা আঘাত করবো। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা তা জানা যায়নি।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টা জবাব দিলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইরান। ইরাকে দুই মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর দেশটি এ হুমকি দিয়েছে বলে আজ বুধবার লাইভ আপডেটে জানিয়েছে সিএনএন। 

এদিকে বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ওদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে বলা হয়েছে, দেশটির শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, ইরাকের ওই দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটির নাম আল-আসাদ ও ইরবিল। সেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিল। প্রাথমিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বলা হচ্ছে, ওই বিমানঘাঁটিতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

ইরাকে মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিস্ফোরণ। ছবি: রয়টার্সহোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিশাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় হামলা হওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তিনি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে পরামর্শও করছেন প্রেসিডেন্ট।’

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইরাকের ওই দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে এক ডজনেরও বেশি ‘ব্যালিস্টিক মিসাইল’ ছুড়েছে ইরান। পেন্টাগনের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এএফপি বলছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইরান থেকে ছোড়া হয়েছে।

মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড। দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রেসটিভি এক টুইট বার্তায় উল্লেখ করেছে, একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ১০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র ফের কোনো হামলা চালায়, তবে আরও কঠোর প্রত্যাঘাত করা হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ সরকারের এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেই সব মিত্রদের সতর্ক করছি, যারা এই সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। যেসব অঞ্চল বা এলাকা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হবে, সেগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।’

গত শুক্রবার ভোরে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি জেনারেল কাশেম সোলাইমানি নিহত হয়েছেন। সোলাইমানি হত্যার ঘটনায় ইরান চরম প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান হামলা চালালে দেশটির ৫২টি স্থাপনায় খুব দ্রুত ও শক্তিশালী হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সেনারা প্রস্তুত।



»