ব্রেকিং নিউজ

নির্বাচিত শিক্ষকদের ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিয়োগ

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ এর পরীক্ষায় নির্বাচিতদের আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন হবে। তবে যেসব জেলায় নিয়োগের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে, সেসব জেলায় এ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) নিয়োগ নিয়ে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন।

সচিব বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ নওগাঁ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে স্থগিতাদেশ বাতিল করেন। ফলে ওই জেলায় নিয়োগে আর কোনো বাধাই থাকছে না। দেশের আরও ২৪ জেলায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে আবেদন করতে আমাদের আইনজীবীকে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়োগবিধি অনুসরণ করে এবং কোটার শর্ত পূরণ করেই সব সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়োগবিধির কোনো ধরনের লঙ্ঘন হয়নি। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কাছে সব তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। আমি আশা করি নওগাঁ জেলার বিষয়ে আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অন্য সব জেলায় নিয়োগে স্থগিতাদেশও আপিল বিভাগে বাতিল হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রার্থী জানান, সরকার যোগদানের সময় নির্ধারণ করলেও আদালতে রিট হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করেও যোগদান করতে পারছেন না। এ বিষয়ে জেলা-উপজেলা থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। এসব নিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, সব নিয়ম অনুসরণ করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। নারী কোটায় ৬০ শতাংশ, পোষ্য ২০ ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২০ শতাংশ অনুসরণ করা হয়েছে। তবে যেসব জেলায় পর্যন্ত নারী প্রার্থী পাওয়া যায়নি সেখানে অন্যান্য কোটার মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলে যারা যোগ্য হয়েছেন তাদের সবাইকে নিয়োগ দেওয়া হবে। কাউকে বাদ দেওয়া হবে না। তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কাল থেকে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৪২ জন প্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্কুল পর্যায় ও স্কুল পর্যায়-২ এর লিখিত পরীক্ষা এবং শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলেজ পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

প্রার্থীরা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। ডাউনলোড করা অ্যাডমিট কার্ডের প্রিন্টেড কপি লিখিত পরীক্ষার সময় দেখাতে হবে। অ্যাডমিট কার্ডে লিখিত পরীক্ষার ভেন্যু উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমানারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৪২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। স্কুল পর্যায়ে ৮৪ হাজার ৬৯৬ জন, স্কুল পর্যায়-২ এ ১১ হাজার ৫৪৭ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ২৯৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চলমান। নতুন জাতীয়করণ করা স্কুলে এসব শিক্ষককে পদায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

বৈঠক থেকে জানা যায়, কমিটির আগের সুপারিশ অনুযায়ী এসএমসির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করার বিষয়ে শিগগিরই আদেশ জারি হবে।

দেশের ৬৪ জেলায় চলমান মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের কার্যক্রমের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে তদারকির মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়েছে বৈঠকে।

প্রসঙ্গত, কমিটির আগের বৈঠকে (১৮ সেপ্টেম্বর) মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। ওই সাব কমিটিকে দেশের চলমান মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের কার্যক্রম ও নিকটস্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী রিডিং পড়তে পারে কিনা, সেই বিষয়ে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

শূন্যপদের তথ্য দিতে সব বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ই-রেজিস্ট্রেশন করতে বলেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। 

রবিবার (২৭ অক্টোবর) থেকে ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে চলবে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ের আগে রেজিস্ট্রেশন করা প্রতিষ্ঠানগুলোও তথ্য হালনাগাদ করার সুযোগ পাবে বলে নিশ্চিত করেছেন এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হুসেন। 

চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হুসেন বলেন, ৩য় নিয়োগ চক্রের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষক সুপারিশের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। তাই, প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্যপদের তথ্য চাওয়া হবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এন্ট্রি লেভেলের শূন্যপদের তথ্য দেয়ার পূর্বশর্ত হলো প্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন করা। শিক্ষক নিয়োগের কাজ সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করাতে শূন্যপদের তথ্য সঠিকভাবে এনটিআরসিএকে দেয়া বাধ্যতামূলক। 

তিনি আরও বলেন, যে কোনো ধরনের ভুল-ভ্রান্তি এড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। যে সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন এখনো সম্পন্ন করা হয়নি, সে সব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ই-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ই-রেজিস্ট্রেশন করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইডি ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

চেয়ারম্যান জানান, ই-রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের। বিষয়টি জানিয়ে গতকাল (২১ অক্টোবর) একটি নির্দেশনাও জারি করেছে এনটিআরসিএ। 

এ বিষয়ে যাবতীয় তথ্য দিতে হেল্পলাইন সেবা দিচ্ছে এনটিআরসিএ। ০২-৪১০৩০১৩১ এবং ০২-৪১০৩০৩৯৩ নম্বর ফোন করে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ই-রেজিস্ট্রেশন ও তথ্য হালানাদকরণের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

স্বীকৃতি পাওয়া সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে এবং এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে আবারও আন্দোলন শুরু করেছেন এমপিওভুক্ত নয়, এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। গতকাল মঙ্গলবারের পর আজ বুধবারও তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। কিছুক্ষণ আগে আন্দোলনকারী একজন শিক্ষক প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, রাতেও কিছু শিক্ষক প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন। নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ডাকে এই কর্মসূচি চলছে।

এদিকে রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমপিওভুক্তির জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও সায় দিয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। ফলে যে কোনো সময় এমপিওভুক্তির ঘোষণা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়ের কেউ কিছু বলছেন না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ২ হাজার ৭০০-এরও কিছু বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে পারে।

এমপিওভুক্ত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে মাসে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পান। বর্তমানে সারা দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় ২৮ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় ৫ লাখ। স্বীকৃতি পেলেও এমপিওভুক্ত না হওয়া প্রতিষ্ঠান আছে সাড়ে ৫ হাজারের মতো। আর স্বীকৃতি না পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে আরও কয়েক হাজার।

সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছিল। এরপর থেকে এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর এমপিওভুক্তির জন্য জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা জারি করে আবেদন নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমের স্বীকৃতি, শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পরীক্ষায় পাসের হার—এই চার মানদণ্ডের ভিত্তিতে ৯ হাজার ৬১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এরপর যাচাই করে সেগুলোর মধ্যে থেকে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। ছোটবেলা থেকে অনেকেই স্বপ্ন দেখেন তার পছন্দের শিক্ষকের মতো একজন শিক্ষক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার। আর তাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে স্কুল ও কলেজের শিক্ষক হওয়া। এই পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করার ক্ষেত্রে বর্তমানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবে। বর্তমানে দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে (স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা) নিবন্ধন ছাড়া চাকরির কোনো সুযোগ নেই। 

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে মেধা তালিকার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। আগামী ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা। তাই স্কুল-কলেজের শিক্ষকতা করার স্বপ্ন যাদের, তারা বাকিটা সময়কে কাজে লাগিয়ে পৌঁছে যেতে পারেন নিজ লক্ষ্যে।    

পরীক্ষা পদ্ধতি 

প্রথমে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে, সময় থাকবে এক ঘণ্টা। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান অর্থাৎ ৪টি বিষয় থেকে প্রশ্ন হবে। প্রতিটি বিষয় থেকে ২৫টি করে প্রশ্ন থাকবে প্রিলিমিনারিতে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য বরাদ্দ ১ নম্বর এবং প্রত্যেক ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা যাবে। এ পরীক্ষায় পাস করতে হলে ৪০ নম্বর পেতে হবে।  

এরপর ঐচ্ছিক বিষয়ে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সময় থাকবে ৩ ঘণ্টা। লিখিত পরীক্ষাতেও পাস নম্বর ৪০। উত্তীর্ণ হলেই শিক্ষক নিবন্ধন সনদ মিলবে।  

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার সময় এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। নির্ধারিত তারিখে সঙ্গে আনতে হবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। এই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই উপজেলা, জেলা ও জাতীয় মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।
 

বাংলা

স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়েই বাংলা ব্যাকরণ অংশের মধ্যে ভাষারীতি ও বিরাম চিহ্নের ব্যবহার, কারক বিভক্তি, সমাস, প্রত্যয়, সন্ধি বিচ্ছেদ, বাগধারা ও বাগবিধি, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, যথার্থ অনুবাদ, বাক্য সংকোচন, ভুল সংশোধন ও লিঙ্গ পরিবর্তন থেকে প্রশ্ন আসে। ব্যাকরণ ছাড়াও বাংলা সাহিত্য থেকে প্রশ্ন আসে। স্কুল পর্যায়ের জন্য নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক, বোর্ড প্রণীত ব্যাকরণ ও বাংলা প্রথম পত্র বইটি ভালোভাবে পড়তে হবে এবং কলেজ পর্যায়ের জন্য একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বইটিও দেখতে হবে। প্রথম পত্র বইয়ের প্রতিটি গদ্য ও পদ্যের লেখক পরিচিতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। 

গণিত

পাটিগণিত অংশের মধ্যে ঐকিক নিয়ম, লাভ-ক্ষতি, শতকরা, সুদকষা, গড়, ল.সা.গু, গ.সা.গু, অনুপাত-সমানুপাত, বীজগণিত অংশের মধ্যে মূলদ ও অমূলদ সংখ্যা, ফাংশন, উত্পাদক নির্ণয়, বর্গ ও ঘন, সূচক ও লগারিদমের সূত্রের প্রয়োগ এবং জ্যামিতির মধ্যে রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, ক্ষেত্রফল ও বৃত্ত, পরিমিতি ও ত্রিকোণমিতি থেকে প্রশ্ন আসে। 

পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতির সাধারণ ধারণা, বিভিন্ন সূত্র, নিয়মাবলি ও এর প্রয়োগ থেকে প্রতি বছরই প্রশ্ন করা হয়। স্কুল পর্যায়ের জন্য ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণির গণিত বইয়ের প্রতিটি নিয়মের অঙ্ক সমাধান করতে হবে এবং কলেজ পর্যায়ের জন্য একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বইয়ের সমাধান করতে হবে। 

ইংরেজি

ইংরেজিতে বেশির ভাগ প্রশ্নই গ্রামারের ব্যবহার থেকে করা হয়। গ্রামার অংশের মধ্যে আছে আর্টিকেল, পার্টস অব স্পিচ, অ্যাপ্রোপ্রিয়েট প্রিপজিশন, ভার্ব, ভয়েস, ন্যারেশন, ট্রান্সফরমেশন, কারেকশন ইত্যাদি। এছাড়া কমপজিশন অংশের মধ্যে প্যারাগ্রাফ, লেটার, অ্যাপ্লিকেশন, পাংচুয়েশন, ক্রিয়েটিভ রাইটিং ও রচনা। গ্রামার অংশে ভালো করার জন্য বারবার চর্চার সাথে বিগত বছরের প্রশ্নগুলোও সমাধান করতে হবে।  

সাধারণ জ্ঞান

সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ, রোগব্যাধি ও চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসে। বাংলাদেশ অংশে রয়েছে বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু, ইতিহাস ও সভ্যতা, সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি, বিভিন্ন সম্পদ; আন্তর্জাতিক অংশ থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সংস্থা, বিভিন্ন দেশ পরিচিতি, মুদ্রা, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ, আন্তর্জাতিক দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা, খেলাধুলা; প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, রোগব্যাধি, চিকিৎসা-স্বাস্থ্য ও পরিবেশ এবং সাম্প্রতিক বিষয়ের প্রতি একটু বেশি নজর দিতে হবে। যেমন বিশ্বকাপ ক্রিকেট, পাকিস্তান দলের বাংলাদেশ সফর, এ বছরের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রভৃতি।

প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর 

প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকা জিপিও বক্স নম্বর-১০৩, ঢাকা-১০০০ ঠিকানায় পাঠাতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, স্নাতক (পাস বা সম্মান) পর্যায়ের নম্বরপত্র, নাগরিকত্ব সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ সনদ, সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনকারীদের অনলাইনে আবেদনের সময় উল্লিখিত ঐচ্ছিক বিষয়ের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে স্নাতক পর্যায়ের প্রবেশপত্র সকল কিছু লাগবে। খামের ওপর ‘পঞ্চদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার আবেদনপত্র’ লিখতে হবে। 

লিখিত পরীক্ষা

সিলেবাস অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বই থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এমনকি প্রয়োজনে স্নাতক পর্যায়ের বই থেকেও প্রস্তুতি নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় প্রতিটি প্রশ্নেরই বিকল্প প্রশ্ন থাকে। 

নিবন্ধন পরীক্ষায় স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়ে ভালো করার জন্য ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বোর্ড বই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর কলেজ পর্যায়ের জন্য একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই দখলে রাখতে হবে। অন্যদিকে, সাধারণ জ্ঞানের জন্য আজকের বিশ্ব, নতুন বিশ্ব, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের মতো তথ্যভিত্তিক বইগুলো বেশ উপকারী।



»